তথ্যপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে জোর খাতসংশ্লিষ্টদের

১৭ আগষ্ট, ২০২৪ ১৭:৫৫  

মেরুকরণের বিভক্তি কাটিয়ে একসঙ্গে আগামী দিনের তথ্যপ্রযুক্তি খাত এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সমমনা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক। তবে বিকল্প নয়, পুরাতন ভুল শুধরে এগিয়ে যেতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ বণ্টন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ ২.০’ বাস্তবায়ন করতে চায় এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা।

সেই লক্ষ্যেই বেসিস সদস্যদের কাজ যেন সরকারের এজেন্সিগুলো নিয়ে যেতে না পারে এবং কার্য নির্বাহী সদস্যরা যেন সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে ব্যবসায় নিয়ে নিতে না পারে এমন দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, স্ট্যান্ডিং কমিটিতে যেনো কাউকে হেয় করা না হয়। একইভাবে রন্ধ্রে রন্ধ্রে সংস্কারে পিপি মডল বাস্তবায়নে আইন পরিবর্তন করতে হবে। আমলাতন্ত্র শুধরে আইনের পরিবর্তন ও কোয়ালিটি রিসোর্স বাড়াতে হবে। বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করতে হবে। সিপিটিইউ ও পিপি ব্যবসায়ীদের স্বার্থে আনতে হবে। আর এমন পরিবর্তনের জন্য লটারি নয় সদস্যদের সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো ক্ষমতায়ন থাকা দরকার বেসিস সংবিধানে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের সিক্স সিজন হোটেলে অনুষ্ঠিত সংস্কার বৈঠকে এসব মন্তব্য করেছেন বেসিস এর সাধারণ সদস্যরা।

মত বিনিময় সভায় বেসিস-এর সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এতদিন কাল্পনিক ডেটা প্রকাশ করা হয়েছে। ভুল ডেটা দিয়ে আমরা তরুণদের বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলেছি। বেসিস থেকে মার্কেট রিসার্চ করে ইন্ডাস্ট্রি ওয়াইট-পেপার প্রকাশ করা ও তা' নিয়মিত হালনাগাদ রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু তহবিল সঙ্কেটের কারণে তা শেষ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি ক্রয়নীতিতে আবশ্যিকভাবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠাকে প্রাধান্য দিতে হবে। সিপিটিউ-র সাথে কাজ করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সংশোধনীও আমরা করেছিলাম, যদিও সাধারণ সদস্যদের তা' জানানো হয়নি বলে বেশীরভাগ সদস্য এর উপকারিতা ভোগ করতে পারেননি। বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর উচিৎ সরকারের কোলে না বসা, আবার ঝগড়াও না করা। এলবো ডিসটেন্স রেখে কাজ করতে হবে বেসিস-কে যাতে সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনে দরকষাকষি করে বা আলোচনা করে সদস্যদের কাজ আদায় করা যায়।

ইন্টারনেট বন্ধ নিয়ে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর ভর্ৎসনা শোনার কথাও তুলে ধরেন সৈয়দ আলমাস কবীর। বলেছেন, বেসিস-এর ভিতরে বৈষম্য ঘুচাতে ও শুধুমাত্র প্রকৃত আইটি কোম্পানীদের সদস্যপদ নিশ্চিত করতে বেসিস প্রেসিডেন্টস ফোরাম থেকে আমরা মেম্বারশিপ অডিট করানোর পরামর্শ দিতে চাই।

বেসিস সাবেক সভাপতি শামীম আহসান বলেন, ব্যবসায় সফলতা হওয়ার জন্য বেসিস এর দরকার হয় না এবং সবচেয়ে সফল কোম্পানিগুলো কাজের জন্য বেসিসের উপর একদম নির্ভর করে না। যতদিন বেসিস সভাপতি ছিলাম ততদিন আইসিটি মন্থণালয়ে সরকারি কাজে পার্টিসিপেট করি নাই। ২০১৫ সালের বেসিস সংবিধান রিফর্ম করেছিলাম যেটা পরবর্তী বোর্ড কার্যকর হতে দেয় নাই। প্রেসিডেন্ট কেন্দ্রিক বোর্ড থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংগঠনের বোর্ডে গণতন্ত্র চর্চা করতে হবে। প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে সেক্রেটারিয়েট থেকে স্পোকপার্সন থাকা দরকার।

বেসিস পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, নতুন প্রজন্মের অনেক সুযোগ থাকার পরও তারা দেশকে ভালোবেসে দেশে বসেই কাজ করছে। তাই আগামী দিনে প্রচলিত ধারার বাইতে তাদের পালস বুঝে চলতে হবে। দলীয়করণ থেকে বের হতে হবে। ব্যবসায়ীদের দলীয়করণ ও দুবৃত্তায়নের কালো থাবা থেকে বের হতে হবে। সামনের দিনি কীভাবে শুধরাবো সেই রাস্তাটি খুঁজে বের করতে হবে।

বৈঠকে রায়ান্স স্বত্তাধিকারী আহমেদ হাসান বলেন, সরকারের কাছে অনুনয়-বিনয় নয় সদস্যদের অংশগ্রহণ ও চাপে সরকারের সঙ্গে কাজ করা দরকার। কারণে অকারণে মন্ত্রী আমার পাশে বসবে এটা আমাদের জন্য অসম্মানের। ইন্ডাস্ট্রির জন্য ক্ষতিকর। আমাদেরকে সরকারের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হবে।

বেসিস সাবেক মহাসচিব ফোরকান বিন কাশেম বলেছেন, ব্রান্ডিংয়ে এগুলো ম্যনেজিংয়ে পিছিয়ে রয়েছে বেসিস। এই পরিস্থিতিতে বেসিস’র সংবিধানের চেয়ে আইন ও নীতি পরিবর্তন নিয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া দরকার।

সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা এ রহমান, আর কখনো যেন ইন্টারনেট বন্ধ করা না হয় সে বিষয়ে সোচ্চার থাকতে হবে। এজন্য আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ইন্টারনেট পলিসি তৈরি করতে চাপ দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য ইন্টারনেট নিরবিচ্ছন্ন রাখা, বৈদেশিক ব্যবসায় বাড়ানোর মতো স্থানে নজর দিতে হবে।

বিআইজেএফ সভাপতি নাজনীন নাহার বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মানবসম্পদ ও ব্যবসায় পরিচালনায় বেসিস এর উচিত নিয়মিত খোঁজ রাখা।

সাবিলা ইনু বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা উন্নয়ন এবং ইন্টারনেট যেন সবার হয় সে বিষয়ে সবাইকে সোচ্চার হওয়া দরকার।

বেসিস সাবেক সহ সভাপতি মুশফিকু রহমান বলেন, সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে কিছু হবে না। নিজেদের শক্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য ভয়েস রেইজ করতে হবে। সংগঠনের মধ্যে স্বচ্ছতা আনতে হবে।

বেসিস সাবেক পরিচালক রাশাদ কবিরের সঞ্চালনায় বর্তমান কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর শাহরুখ ইসলাম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মামলুক কাদের, শোয়েব মাসুদ,পরিচালক রাশাদ কবির, সদস্য নাদিম মজিদ, নাফিসা বর্ষা, মৃদুল চৌধুরী, তানজিম ইসলাম, ইশতিয়াক আহমেদ, মিনহাজ ফাহমি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।